নেক্সপেরিয়া দ্বন্দ্বে ফের বিশ্বজুড়ে চিপ সংকটের আশঙ্কা চীনের

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নেক্সপেরিয়া এবং এর চীনা শাখার মধ্যে নতুন করে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছে চীন।

গত শনিবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডাচ প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা আবারো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এ সংকটে নেদারল্যান্ডসকেই পূর্ণ দায়ভার বহন করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। খবর রয়টার্স।

মূলত নেক্সপেরিয়ার ডাচ সদর দপ্তর এবং এর চীনা ইউনিটের মধ্যে মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি নেদারল্যান্ডস শাখা চীনা অফিসের সব কর্মীর অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট ও আইটি সিস্টেমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিলে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পদক্ষেপটি দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত এবং কোম্পানির স্বাভাবিক উৎপাদন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। ফলে যদি আবারো চিপ সংকট তৈরি হয়, তবে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে বিশ্বজুড়ে গাড়ি ও ইলেকট্রনিকস শিল্পে।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে এ দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়, যখন নেদারল্যান্ডস সরকার নেক্সপেরিয়াকে চীনা মূল প্রতিষ্ঠান উইংটেক থেকে আলাদা করে দেয়। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন স্থানীয়ভাবে তৈরি নেক্সপেরিয়া চিপের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে গাড়ি উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। যদিও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে তখন সংকট কিছুটা প্রশমিত হয়েছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক আইটি জটিলতা ও প্রশাসনিক বিরোধ সে উত্তেজনাকে আবারো তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

গাড়ির ইলেকট্রনিক সিস্টেমে নেক্সপেরিয়ার চিপ ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। চীনের কুয়াংতুং প্রদেশে এ চিপের একটি বিশাল অ্যাসেম্বলি এবং টেস্টিং প্লান্ট রয়েছে। নেদারল্যান্ডসের সদর দপ্তর এখন এ কারখানায় ওয়েফার বা চিপ তৈরির মূল কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, চীনা শাখাটি নিজেদের ডাচ নিয়ন্ত্রণ থেকে স্বাধীন ঘোষণা করে পাল্টা অবস্থান নিয়েছে। দুই পক্ষের এ পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যস্থতার সব চেষ্টাই এখন ব্যর্থ হওয়ার পথে।

আরও